আমরা সুখের চেয়ে সম্মানকে বেশি গুরুত্ব দিই। আমরা প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করছি জীবিকার তাগিদে। ভোরে ঘুম থেকে ওঠে খাওয়ামাত্রই কাজে নেমে পড়ছি। সারাদিন শারীরিক-মানসিক শ্রমের মধ্য দিয়ে দিন অতিবাহিত করছি। সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে রাতটুকু বিশ্রাম নিয়ে আবার সকালে কাজে লেগে পড়ছি। এভাবে দিন-রাতের আবর্তনে আমাদের নির্ধারিত আয়ু শেষ হচ্ছে। আমরা আয়েশী জীবন ত্যাগ করেছি, বিশ্রাম ত্যাগ করেছি। আমরা ছুটে চলছি অর্থ-বিত্তের পেছনে, ক্ষমতার পেছনে, আমরা উঁচু আসনে বসার প্রতিযোগিতায় ছুটে চলছি। কারণ, আমরা সম্মান এবং মর্যাদা পাবার আশায় এই পরিশ্রান্ত পথে ছুটছি। এই ভেবে করছি যে, অর্থ-বিত্ত, ধন-সম্পদ, ক্ষমতা, প্রসাদ এসবেই মানুষের মর্যাদা আবর্তিত। ভাবছি, টাকা-পয়সা না থাকলে কেউ সম্মান করে না। আমাদের ভাবনাটা একেবারে অবান্তর নয়, অনেকটা ব্যবহারিক।
কর্মস্পৃহার বাস্তবতা:
অর্থ-বিত্ত কতখানি সম্মান ও মর্যাদার আসন ধরে রেখেছে তা যাচাই করতে কতিপয় উদাহরণ বলা যেতে পারে। যেমন- জামালপুর জেলার সাবেক জেলা প্রশাসকের একটা ভিডিও ভাইরাল হয়। এরপর তার সম্মান কতটুকু সেটা সমাজ বিচার করে। একইভাবে আমি বলতে পারি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শতকরা ৮০ ভাগ শিক্ষককে ছাত্ররা সম্মান করে না। প্রশাসনের একজন প্রশাসক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এই পদগুলো সম্মান ও মর্যাদার জন্য অত্যন্ত আকাঙ্খিত। কিন্তু সেখানে পৌঁছেও কতজন সম্মানিত হতে পেরেছেন তা ভাবনার বিষয়। আমরা কতটুকু সম্মানিত এবং ঘৃণিত তা আমাদের আশেপাশে যারা থাকেন তারাই নির্ধারণ করেন, দূরে থেকে দেখা কেউ নয়। প্রতিনিয়ত খবরের কাগজে অনেক উঁচু পদমর্যাদাধারীদের ব্যাপারে যখন নেতিবাচক খবর বের হয় তখন আমরা কিছুটা হলেও আঁচ করতে পারি তারা তাদের পরিবার, সহকর্মী, বন্ধু-বান্ধবের নিকটা কতখানি সম্মানিত। এত উঁচুতে পৌঁছেও আমরা অনেকে সম্মানিত হতে পারছি না। কেন?
![]() |
কাঙ্খিত বস্তুর ঠিকানা:
হযরত হাসান আল বসরি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছিলেন,
“আল্লাহর বিধানকে সম্মান করো, তুমি যেখানেই থাকো আল্লাহ তোমাকে সম্মানিত করবেন।”
তাহলে আমাদের পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন আল্লাহর বিধান সম্পর্কে।
আল্লাহর বিধানকে আমরা সাধারণত দুই রূপে দেখি:
১. সরাসরি আল্লাহর নিয়ন্ত্রণ এবং
২. মানুষের হাতে অর্পণ করা বিধান।
১. সরাসরি আল্লাহর নিয়ন্ত্রণ :
প্রতিদিন ভোরে সূর্য ওঠে এবং সন্ধ্যায় অস্ত যায়, দিনে তাপ দেয়, উত্তাপে সমুদ্রের পানি বাষ্পে পরিণত হয়, বাষ্প থেকে মেঘ হয়ে আবার বৃষ্টি হয়ে ভূ-পৃষ্ঠে আসে। মাটি থেকে উদ্ভিদ জন্ম নেয়, পানি থেকে মাছ ও জলজ জীবের জন্ম, শূ্ন্য থেকে প্রাণের সঞ্চার হয়। প্রাচীনকাল থেকে চলে আসা সমুদ্রস্রোতকে কাজে লাগিয়ে নৌকা-জাহাজ চালনা, আগুনের সাহায্যে লোহাকে গলিয়ে সরঞ্জামাদি তৈরি থেকে শুরু করে আজকের যুগের বায়ুচাপ প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে উড়োজাহাজ, জেটবিমান, রকেট ইত্যাদির উড্ডয়ন, আলোর মাইক্রোওয়েভকে কাজে লাগিয়ে নেটওয়ার্কিং ইত্যাদি সবই আল্লাহর বিধান। এসব বিধান সরাসরি আল্লাহ নিয়ন্ত্রণ করেন। মানুষ প্রাকৃতিক এই শক্তি তথা সম্পদকে কাজে লাগিয়ে নিজেদেরকে সমৃদ্ধ করতে পারে, কিন্তু তা পরিবর্তন করতে পারে না এবং সৃষ্টি করতে পারে না। মানুষ সূর্য, আলো , তাপ, বায়ু, পানি কিছুই তৈরি করতে পারে না এবং এদের পরিবর্তনও করতে পারে না। অর্থাৎ মহাবিশ্বের এই যে নিয়মশৃঙ্খলা; মহাশূন্যে অসংখ্য গ্রহ-নক্ষত্র একে অপরের আকর্ষণে ধরে আছে সেটাই আল্লাহর বিধান যা সরাসরি আল্লাহর নিয়ন্ত্রণে। আর যেদিন মহাবিশ্বে এই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটবে সেদিন কেয়ামত সংঘটিত হবে। আধুনিক বিজ্ঞানও বলছে, একদিন মহাবিশ্ব তার এই নিয়ম-শৃঙ্খলা হারিয়ে ফেলবে এবং সেদিন মহাবিশ্ব ধ্বংস হয়ে যাবে।
২. মানুষের হাতে অর্পণ করা বিধান :
সূরা বাকারার ৩০ নং আয়াতের শুরুতে,
'যখন তোমার প্রভু ফেরেশতাদেরকে বলেছিলেন, “আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি নিযুক্ত করতে যাচ্ছি।”
যেহেতু অগণিত সৃষ্টিকুলের মাঝে একমাত্র মানুষই খলিফা বা প্রতিনিধি , সেহেতু মানুষকে প্রতিনিধিত্ব করবার শক্তিও দেয়া হয়েছে। সে প্রাকৃতিক শক্তি তথা সম্পদকে আহরণ, প্রক্রিয়াকরণ, বণ্টন ও বণ্টনের সহায়ক কার্যাবলীর ক্ষেত্রে আল্লাহর বিধানের বাস্তবায়ন করতে পারে আবার নিজের মনগড়া বিধানও তৈরি করে নিতে পারে। এভাবে দুনিয়ায় শত শত মানবরচিত মতবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অর্থনীতির জন্য সমাজতন্ত্র, পুঁজিবাদ, সাম্যবাদ; রাজনীতির জন্য গণতন্ত্র, স্বৈরতন্ত্র, একনায়কতন্ত্র, সামন্তবাদ ইত্যাদি হাজারো। এসব মানবরচিত মতবাদ আজকের আলোচ্য বিষয় নয়। আজকের আলোচ্য বিষয় মানুষের হাতে অর্পণ করা আল্লাহর বিধান।
কুরআনে বলা হয়েছে,
” ইসলাম আল্লাহ মনোনীত একমাত্র পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান”। (সূরা আলে ইমরান-১৯)
অর্থাৎ ইসলামকে কোনো ধর্ম বলা হয়নি, বলা হয়েছে একটা Complete Code of Life অর্থাৎ আমাদের সামগ্রিক জীবনে কী কাজ করা যাবে আর কী কাজ করা যাবে না তার একটা নিয়মকানুন অর্থাৎ Code/guideline। সুতরাং আনুষ্ঠানিক প্রার্থনা, লেবাস, পোশাক, বেশভূষার চেয়ে Lifestyle বা জীবন চলার পদ্ধতিটা গুরুত্বপূর্ণ।
সূরা মায়েদার ৩ নং আয়াতের শেষাংশ,
”আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীনকে পূর্নাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্যে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম। অতএব যে ব্যাক্তি তীব্র ক্ষুধায় কাতর হয়ে পড়ে; কিন্তু কোন গোনাহর প্রতি প্রবণতা না থাকে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা ক্ষমাশীল। ”
আল্লাহর বিধান অনুসারে পারিবারিক জীবন কেমন হবে তা যদি দেখি:
আল্লাহ নারী এবং পুরুষকে পরস্পরের নিকট আকর্ষণীয় করে সৃষ্টি করেছেন।পরস্পরকে পরস্পরের নিকট চাহিদাসম্পন্ন করে তৈরি করেছেন। এই চাহিদা ও আকর্ষণ অনিয়ন্ত্রিত। আবার এই চাহিদা পূরণ করাকে তিনি নিষেধও করেননি। বরং তার শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়ম দিয়েছেন যাতে সুন্দর ও সুচারুরূপে এই চাহিদা পূরণ করা যায়। স্বাভাবিকভাবেই যিনি এই অনুভূতি দিয়েছেন এবং তিনিই তা পূরণের পন্থা দিয়েছেন। সেটি পূরণের পন্থা হলো পরিবার গঠন। সেই মহানসত্তা এ পরিবারকে কিভাবে রক্ষা করা যায় তার জন্যও বিধান দিয়েছেন। আজকের পশ্চিমা বিশ্ব জ্ঞান-বিজ্ঞানে উন্নতির শিখরে পৌঁছেছে। কিন্তু তাদের পড়াশোনায় তারা বলছে, উত্তরাধুনিকতার এ যুগে (Post-modernism) জন্ম নিয়েছে হতাশা, নৈরাশ্যবাদ (Pessimism)। যার কারণ হিসেবে তারা বলছে তাদের পরিবারব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাওয়া। আবার পরিবারব্যবস্থা ধ্বংসের কারণ হিসেবে তাদের গবেষণা বলছে উদারতাবাদই (Liberalism) দায়ী।
তাদের কয়েকটা গবেষণা প্রবন্ধ থেকে কিছুটা আলোকপাত করলে দেখা যায় :
আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সাইট National Library of Medicine এর National Center for Bio-Technology Information এর Sex differences in sexual attraction for aesthetics, resources and personality across age শিরোনামে প্রকাশিত জার্নালে যৌন আকর্ষণের বিষয়ে কী কী ফ্যাক্টর কাজ করে তার বিশদ প্রামাণ্য আলোচনা করা হয়েছে। সেখান থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, জৈবিক চাহিদার সর্বশেষ ধাপ হচ্ছে শারীরিক মিলন। এটি ঘটার অনেকগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কারণ রয়েছে। এসব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কাজের সম্মিলিত পরিণতি শেষের দিকে নিয়ে যায়। যেমন- একসাথে খাওয়া, যাওয়া-আসা বা সফর করা, ইচ্ছাকৃত হাতের স্পর্শ, কমনীয় ভঙ্গিতে চোখাচোখি, হাসাহাসি, ইঙ্গিতপূর্ণ রসিকতা ইত্যাদিও জৈবিক চাহিদার অংশ। এসব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কাজ শুধুমাত্র স্বামী-স্ত্রীর জন্য বৈধ।
গবেষণায় বলা এসব কাজকে যৌন কর্মকাণ্ড কিনা পরীক্ষা করার জন্য ধার্মিক বেশধারী একজন যুবককে বেছে নেওয়া হলো। সে প্রতিদিন তার সুন্দরী নারী সহকর্মীর সাথে অফিসে যাতায়াত করে। তারা বৈবাহিক নয়। তাদের বেছে নেওয়ার কারণ হলো, তারা বেশভূষায় ধার্মিক কিন্তু কোনো ধর্মই বিবাহবহির্ভূত নারী-পুরুষের অপ্রয়োজনীয় সুসম্পর্ক অনুমোদন করে না। একজন ধার্মিক হিসেবে এটি দৃষ্টিকটু হলেও যুক্তি দেখানো হলো যে, নারী সহকর্মীর নিরাপত্তার স্বার্থে সে একাজ করছে। সুন্দরী নারী সহকর্মীও এখানে দায়মুক্ত নয়। কারণ, সে এখানে নিরাপত্তার কারণ দেখালেও বস্তুত তা নিরাপত্তাসংক্রান্ত সমস্যা হওয়ার মত বিষয় ছিল না। একদিন ধার্মিক বেশধারী বিবাহিত যুবক বদলি হয়ে অন্য অফিসে চলে গেল। সেখানে তার অফিস থেকে বাসায় যাতায়াতের সঙ্গী হিসেবে পেলেন অফিসের বয়স্ক অসুন্দরী দরিদ্র আয়া। প্রথম প্রথম দুয়েকবার আয়ার সাথে সে যাওয়া-আসা করলেও পরে একাকী যাওয়া-আসা শুরু করলো। আগের অফিসে সুন্দরী নারী সহকর্মীর জন্য যেভাবে বসে থাকতো এখানে সেভাবে থাকছে না। বরং আয়ার সঙ্গী হওয়াকে অস্বস্তি মনে করতে লাগল। আর ঐদিকে সুন্দরী নারী সহকর্মী যাতায়াতের জন্য অন্য আরেক পছন্দসই পুরুষ সঙ্গী বেছে নিলেন। এখানে যুবকের যে সুন্দরী নারী সহকর্মীর প্রতি attraction ছিল সেটি কি জৈবিক চাহিদার কারণে নয়? অর্থাৎ চেহারার কমনীয়তা, সম্পদ ও বয়সের তারতম্যের কারণে Sexual Attraction এর পার্থক্য তৈরি হয়। মানবিকতার ব্যাপার জড়িত থাকলে বয়স্ক অসুন্দরী গরীব মহিলার প্রতি Attraction বেশি থাকত। সেটাকে আমরা Humane Attraction বলে অভিহিত করতে পারতাম।
বিখ্যাত জার্নাল প্রকাশনী রিসার্চগেটে প্রকাশিত Sexual Behavior at Workplace এ দেখা যায় যে, অনেক বিবাহিত এবং অবিবাহিত নারী-পুরুষ উভয়েই কাজের ফাঁকে বিপরীত লিঙ্গের সহকর্মীদের সাথে বেশি ভাব জমানো, হাস্যরসাত্মক কথাবার্তা বলা, একসাথে নাস্তা করতে যাওয়া, খাওয়া ইত্যাদি কাজগুলো করেন। এমনকি অফিসের বসের আচরণ সমান মর্যাদার দুজন কোওয়ার্কারের সাথে সমান হয় না। অফিস প্রধান নারী সহকর্মীদের প্রতি বেশি অনুরক্ত। এসব যৌন আচরণ।
একই কথা কুরআনেও বলা হয়েছে:
” আর ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ”।(সূরা বনী ইসরাইল-৩২)
আল্লাহর কথা বলার ধরন হচ্ছে ব্যভিচার তো দূরের কথা, এর কাছাকাছিও যেন না যাই। পরের অংশে পরিষ্কারভাবে ব্যভিচারের সংজ্ঞা দেয়া হলো। ব্যভিচারের কাছাকাছি অনেকগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পথ আছে এবং সেগুলো অশ্লীল ও মন্দ। এই কাছাকাছি পথগুলো পাড়ি দিয়ে ব্যভিচার পযর্ন্ত যাওয়া হয়। আল্লাহ এ পথটাকে পযর্ন্ত বন্ধ ঘোষণা করে দিলেন।
![]() |
এক্ষেত্রে পশ্চিমাদের ডাবল স্ট্যান্ডার্ড হচ্ছে, তাদের গবেষণায় উল্লিখিত কর্মকাণ্ডকে যৌন কর্মকাণ্ড বলে সংজ্ঞায়িত করেছে। কিন্তু এসব বন্ধে আল্লাহর বিধানকে সংকীর্ণতা বলে প্রচার করে। তারা প্রচার করে, পুরুষতান্ত্রিক সমাজ এসব বিধান এবং নিয়মের কথা বলে নারীজাতির অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দিতে চায়। আবার তাদের গবেষণা বলছে এসব উদার যৌন কর্মকাণ্ডের কারণে পরিবারব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। গত কয়দিন আগে দেশের মূলধারার একটা পত্রিকা রিপোর্ট করেছে, ঢাকায় প্রতি ৪০ মিনিটে একটি বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা ঘটছে। ভাঙার অন্যতম কারণ হচ্ছে কর্মক্ষেত্রে বিবাহ-বহির্ভূত নারী-পুরুষের সুসম্পর্ক। যেখানে সহকর্মী নারী-পুরুষরা একে অপরের feelings, sense of humor ইত্যাদিতে আসক্ত হয়ে পড়ছে কিন্তু বাসায় গিয়ে স্বামী বা স্ত্রীর সাথে ঘুমাচ্ছে। Romantic feelings, sense of humor ইত্যাদি যৌন কর্মকাণ্ডসমূহের ঘাটতি তাদের সংসার জীবনে বিচ্যুতি হচ্ছে। Statistical Formula: Deviation=Expectation-Accepted। সহকর্মীর রসাত্মক অনুভূতির সাথে স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গ ভিন্নতা তৈরি করছে। অথচ সহকর্মীর সাথে শেয়ার করা ফিলিংসগুলো স্বামী বা স্ত্রীর সাথে হওয়ার কথা ছিল। তখন ডেভিয়েশন ঘটতো না।
অথচ আল্লাহর বিধান হচ্ছে:
১. নারী ও পুরুষ উভয়ই তাদের দৃষ্টি ও লজ্জাস্থানের হেফাজত করবে।
২. নারী ও পুরুষ উভয়ই মাহরাম এবং গায়বে মাহরাম (কাদের সাথে পর্দা করবে এবং করবে না) মেনে চলবে।
৩. পুরুষ কোনো পরনারীর প্রতি দৃষ্টিপাত করবে না। অনাকাঙ্খিত দৃষ্টি পড়ে গেলে কালবিলম্ব না করে দৃষ্টি ফিরিয়ে নেবে।
৪. নারী গায়রে মাহরাম পুরুষের সাথে কমনীয় ভঙ্গি ও ভাষায় কথা বলবে না; প্রয়োজনে কথা বলতে হলে এমনভাবে বলবে যাতে ঐ পুরুষ তার প্রতি আকৃষ্ট না হয়।
৫. নারী-পুরুষ কেউ গায়রে মাহরাম কারো সফরসঙ্গী হবে না।
৬. নারী প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হলে সুগন্ধি ব্যবহার করবে না এবং সেজেগুজে বের হবে না।
৭. পরিবারে পুরুষকে নারীদের উপর কর্তৃত্ব দেয়া হয়েছে। সে ক্ষমা, রহম(দয়া ও করুণা), ইনসাফ এবং ন্যায়নীতি দ্বারা শাসন করবে।
৮. পোশাকে ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ উভয়ই যার যার সতর এবং ফরজিয়াত মেনে পোশাক পরিধান করবে।
ইত্যাদি আরো সেসব কর্মকাণ্ড যেগুলো মানুষকে ব্যভিচারের কাছে নিয়ে যায় সেগুলো আল্লাহর বিধানে নিষিদ্ধ।
দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে পশ্চিমাদের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের একটা শ্রেণীও আল্লাহর বিধানকে সংকীর্ণতা বলে প্রচার করে। অথচ আমরা আল্লাহর প্রতিনিধি! আর আল্লাহর বিধানের অনুসারীদের নীচু মানসিকতার বলে প্রচার করছি!
তাদের কাছে আমাদের প্রশ্ন; আল্লাহর দেয়া এই বিধান কিভাবে নারীদের উন্নতি পথে বাধা হয়ে দাড়ায়? কিভাবে নারীদের পিছিয়ে রাখছে? আর এ বিধানগুলো না মানলে যে উন্নতি হয়ে যাবে তা কী করে? অথচ এ বিধানগুলো নারীর ইজ্জত-আব্রুর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিয়েছে। আল্লাহর এ বিধান নারী ও পুরুষ উভয়কে সম্মানিত করেছে। আল্লাহর বিধানে অসংখ্যবার বলা হয়েছে, আল্লাহর বিধান মানুষকে গরীব/দরিদ্র থাকতে উৎসাহিত করে না। মুসলমানদের ইতিহাসে নারীরা সম্মানিত ও সমৃদ্ধ। মুসলমানদের ইতিহাসে অসংখ্য সম্মানিত ও সমৃদ্ধ নারীর ইতিহাস আমরা পাই। আমাদের স্ত্রীরা-মায়েরা আমাদেরকে রক্তাক্ত জিহাদের ময়দান থেকে শুরু করে ব্যবসায়-বাণিজ্যে এমনকি রাষ্ট্র পরিচালনায় পযর্ন্ত পাশে থেকে সহযোগিতা করে গেছেন। খেলাফতের সময় এক বীরের মাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, মুসলিম নারীদের এত শক্তির উৎস কোথায়? কিভাবে তারা স্বামী-সন্তানদের এত পাশে থাকেন? জবাবে বলেছিলেন, “ আমরা মাতৃত্বকে ধারণ করি। এই মাতৃত্বই আমাদেরকে শক্তি এবং সাহস দেয়।” অথচ আজকে আমরা মাতৃত্ব-পিতৃত্বের সূতিকাগার পরিবারব্যবস্থা ভাঙনের দিকে নিয়ে যাচ্ছি। মাত্র ১০০ বছর আগেও আমাদের খেলাফত ছিল। পুরো দুনিয়া মুসলমানদের কথায় চলত। ইনশাআল্লাহ অচিরে আবারো খেলাফত প্রতিষ্ঠিত হবে। মুমিনরাই এই বিধানকে দুনিয়ায় প্রতিষ্ঠিত করবে।
আর হ্যাঁ, আল্লাহর বিধানে তাদের এই উদারতাবাদকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। অমুসলিমদেশে জনপ্রিয় কিছু ব্যবসায় ; যেমন- বেশ্যাবৃত্তি, গণিকাবৃত্তি, অশ্লীল সিনেমা, নারীদের দিয়ে স্পা সেন্টার, উন্মুক্ত নাচ ইত্যাদি। এগুলো নিষিদ্ধ করাটাকে তারা সংকীর্ণতা বলে প্রচার করে। এসব পেশা নিষিদ্ধ কারণ এসবে নারী-পুরুষ উভয়ের সম্মান ও মর্যাদা ভূলণ্ঠিত হয়। তাদের কাছে আরো প্রশ্ন, তারা কি নারীদেরকে পণ্য বানিয়ে উন্নতি করছে? সম্মানিত করছে? তারা কি তাদের গবেষণা অনুসারে নারীদের যৌনসামগ্রী বানাচ্ছে না? যারা আল্লাহর বিধান অনুসরণ করে না পরকালে তো তাদের বিচার হবে, এবং তারা দুনিয়াতেও সম্মানিত নয়।
আল্লাহর বিধানের সহজলভ্যতা:
”আল্লাহ কাউকে তার সামর্থ্যে বাইরে বোঝা চাপিয়ে দেন না।”(সূরা বাকারা – ২৮২)
অর্থাৎ আল্লাহর দেয়া বিধান; দিনে পাঁচবার সালাতের মাধ্যমে আল্লাহকে স্মরণ করা, হালাল রুজির সন্ধান, সম্পদ আহরণ ও বণ্টনে ন্যায়বিচার করা, নারী-পুরুষ পরস্পরের ইজ্জত-আব্রু রক্ষা করে চলা এসব কাজ মোটেও মানুষের সামর্থ্যের বাইরে নয়। যেকোনো কেউ চাইলে আল্লাহর বিধানে নিজেকে সম্মানিত করতে পারে।
আল্লাহ আরো সহজ করে দিয়েছেন সূরা তাগাবুনের ১৬ নং আয়াতে বলেই দিয়েছেন তোমরা সাধ্যের মধ্যে আল্লাহকে ভয় করো।
গাফিলদের পরিণতি:
মহান আল্লাহ বলেন,
‘আমি বহু জিন ও মানুষকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি। তাদের হৃদয় আছে, কিন্তু তারা তা দিয়ে উপলব্ধি করে না। তাদের চোখ রয়েছে, কিন্তু তারা তা দিয়ে দেখে না। তাদের কান আছে, কিন্তু তা দিয়ে তারা শোনে না। এরা হলো পশুর মতো, বরং তার চেয়েও বেশি বিভ্রান্ত। তারাই হলো গাফিল বা অমনোযোগী।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ১৭৯)
(কুরআন-হাদিসের বাইরে দুইটা আর্টিকেল থেকে তথ্য নেয়া হয়েছে)


Comments
Post a Comment