সূরা আল আনআমঃ আয়াত নং ১৬২
قُلْ إِنَّ صَلَاتِى وَنُسُكِى وَمَحْيَاىَ وَمَمَاتِى لِلَّهِ رَبِّ الْعٰلَمِينَقُ
উচ্চারণ : (ক্বুল ইন্নাস সালাতি ওয়া নুসুকি ওয়া মাহইয়ায়া ওয়া মামাতি লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন।)
অর্থ : আপনি বলুন, আমার নামায, আমার কোরবানি এবং আমার জীবন ও মরণ বিশ্ব-প্রতিপালক আল্লাহরই জন্যে।
রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন:
« مَنْ أَحَبَّ لِلَّهِ ، وَأَبْغَضَ لِلَّهِ ، وَأَعْطَى لِلَّهِ ، وَمَنَعَ لِلَّهِ فَقَدِ اسْتَكْمَلَ الإِيمَانَ » . (رواه أبو داود ).
“যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য কাউকে ভালোবাসল, আল্লাহর জন্য কাউকে ঘৃণা করল, আল্লাহর জন্য কাউকে দান করল এবং আল্লাহর জন্য কাউকে দান করা থেকে বিরত থাকল, সে ব্যক্তি নিজ ঈমানকে পূর্ণতা দান করল।” (আবু দাউদ)
একবার সিফফিন এর যুদ্ধে হযরত আলী (রা.) একজন কাফিরকে বদ করলেন। এতে ঐ কাফির ক্রোধান্বিত হযরত আলী (রা.) এর গায়ে থুথু মারলেন। যখন থুথু এসে হযরত আলী (রা.) এর গায়ে পড়ল,, তখন তিনি সাথে সাথে তার হাতে থাকা তলোয়ারটি মাটিতে ফেলে দিলেন।এটা দেখে কাফির খুবই অবাক হলো এবং জিজ্ঞাসা করলো, তুমি আমাকে হত্যা না করে তলোয়ারটি ফেলে দিলে কেন?,যেখানে আমার অপরাধ দু'টি,,,এক আমি তোমার কাছে পরাজিত তার ওপর আমি তোমার গায়ে থুথু মেরেছি..কাফিরের প্রশ্নের উত্তরে হযরত আলী (রা.) বললেন, "তোমাকে আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হত্যা করতে চেয়েছিলাম,,কিন্তু এখন যদি আমি তোমাকে হত্যা করি তাহলে সেটা হবে ব্যক্তিগত ক্রোধের জন্য । তাই আমি তোমাকে হত্যা করলাম না। "
এখানে আমরা বেশকিছু সিদ্ধান্ত নিতে পারি :
১. মুসলমান কোনো কিছু গ্রহণ করা বা ছাড়ার ক্ষেত্রে নিজের নফসের ক্রোধ, ইগো, দম্ভ এসবকে প্রাধান্য দিতে পারে না।
২. আল্লাহর বিধানের ক্ষেত্রে “শোনলাম এবং মেনে নিলাম” ছাড়া আর কোনো যুক্তিতর্ক নেই।
**ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে: "যখন আয়াতুল হিজাব নাযিল হয়, তখন আনসার নারীরা দাঁড়িয়ে গেল, তারা নিজেদের মোটা কাপড় ছিঁড়ে মাথা ও মুখ ঢেকে ফেলল। তারা এভাবে পর্দা অবলম্বন করল।"(তাফসীর ইবনে কাসীর, সূরা নূর/আহযাব-এর ব্যাখ্যা অংশে)
**আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) বলেন: “আমি আবু তালহা (রাঃ)-এর ঘরে কিছু লোককে পান করাচ্ছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর একজন ঘোষণা করলেন:“মদ হারাম করে দেওয়া হয়েছে।”আমরা সঙ্গে সঙ্গে মদের হাঁড়িগুলো ভেঙে দিলাম এবং রাস্তার মধ্যে মদ ঢেলে দিলাম।
যখন এই আয়াত নাযিল হয়, তখন মদ পানেরত অবস্থায় সাহাবাগণ তাৎক্ষণিকভাবে গলা থেকে মদ টেনে ফেলে দেন, হাঁড়িগুলো ভেঙে দেন, এবং রাস্তার ধারে ঢেলে দেন।মদ প্রবাহিত হয়ে মদীনার গলি গলি বেয়ে চলে যায়। (তাফসীর ইবনে কাসীর, সূরা মায়িদাহ ৫:৯০-এর তাফসীরে এসেছে)
৩. আর সে যা-ই করবে আল্লাহর জন্যই করবে। যেকোনো সোর্স থেকে সে ইলম আহরণ করতে পারে। মূখ্য হচ্ছে আল্লাহর জন্য উৎসর্গিত হবে। বিনিময়ে আল্লাহর কাছে দুনিয়ায় শান্তি ও পরকালে জান্নাত আশা করবে।
Comments
Post a Comment